মেনু
উইজলিজ উইজার্ড উইজেস
Musingsofmaksud
Musingsofmaksud
Oct 09, 2026

উইজলিজ উইজার্ড উইজেস

দুই ভাই, একটা দোকান, আর গোটা উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের সেরা প্র্যাঙ্ক।

দুই ভাই, একটা দোকান, আর গোটা উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের সেরা প্র্যাঙ্ক।

হগওয়ার্টসে পড়াশোনা শেষ না করেই স্কুল থেকে সগৌরবে বেরিয়ে গিয়েছিল দুটো ছেলে। ফ্রেড আর জর্জ উইজলি। সপ্তম বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে অত্যাচারী ডলোরেস আমব্রিজের মুখে ঝাড়ু মেরে, করিডোর জুড়ে এক মহাকাব্যিক আতশবাজির উৎসব তৈরি করে উধাও হয়ে গিয়েছিল তারা।

উইজলি পরিবারে এমনিতেই টাকাপয়সার দারুণ অভাব। মিসেস উইজলি বা আমাদের সবার প্রিয় মলি উইজলি চেয়েছিলেন ছেলেরা বড় ভাই পার্সির মতো মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকে ঢুকুক, একটা ভদ্রস্থ চাকরি করুক। কিন্তু এই দুই ভাইয়ের মাথায় ছিল সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। তারা মানুষকে হাসাতে চেয়েছিল, এই অন্ধকার দুনিয়ায় একটু আনন্দের আলো ছড়াতে চেয়েছিল।

সমস্যা একটাই, ব্যবসা শুরু করতে তো পুঁজিলগ্নি লাগে, মানে অনেক অনেক গ্যালিয়ন। আর সেই টাকাটা এলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত এক জায়গা থেকে।

ট্রাইউইজার্ড টুর্নামেন্ট জেতার পর সেড্রিক ডিগোরির করুণ মৃত্যুর ট্র্যাজেডি মাথায় নিয়ে হ্যারি পটার পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিল এক হাজার গ্যালিয়ন। সেই পুরো টাকাটা সে একদিন চুপচাপ তুলে দেয় ফ্রেড আর জর্জের হাতে। হ্যারি শুধু একটা শর্ত দিয়েছিল, মিসেস উইজলিকে যেন জানানো না হয় এই টাকার উৎস কী। সে বলেছিল, তোমরা মানুষকে হাসাও, আমাদের এখন এই বিষণ্ণ সময়ে হাসির খুব দরকার। এই একটা কাজেই বোঝা যায় হ্যারি ছেলেটা আসলে ভেতর থেকে কতটা পরোপকারী আর জহুরি ছিল।

তারপরের গল্পটা একদম রূপকথার মতো। ডায়াগন অ্যালির ৯৩ নম্বর দোকানটা, যেটা এতদিন পরিত্যক্ত আর বন্ধ পড়ে ছিল, সেটাই একদিন সেজে উঠল চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল বেগুনি আর কমলা রঙে। দোকানের নাম, উইজলিজ উইজার্ড উইজেস। জানালার কাচের ওপারে একটা বিশাল যান্ত্রিক মানুষ প্রতিনিয়ত টুপি তুলছিল, আর তার টুপির নিচ থেকে একটা খরগোশ উধাও হয়ে যাচ্ছিল। লর্ড ভলডেমর্ট ফিরে আসার ভয়ে যখন গোটা ডায়াগন অ্যালি অন্ধকার, সব নামী দোকানপাট বন্ধ, তখন এই একটা দোকানই চারদিকে আলো আর প্রাণপ্রাচুর্য ছড়াচ্ছিল।

এবার আসি আসল মজায়, তাদের দুর্দান্ত সব প্রোডাক্টস।

Skiving Snackboxes ছিল হগওয়ার্টসের স্টুডেন্টদের অল-টাইম ফেভারিট। ছোট ছোট দুই রঙের ক্যান্ডি, যেগুলোর এক পাশ কামড় দিলে আপনি সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়বেন, আর অন্য পাশটা মুখে দিলেই ম্যাজিকের মতো সুস্থ। Puking Pastilles খেলে বমি, Nosebleed Nougat খেলে নাক দিয়ে রক্তপাত, Fainting Fancies খেলে অজ্ঞান, আর Fever Fudge খেলে ধুম জ্বর। উদ্দেশ্য একটাই, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রফেসরদের চোখ ফাঁকি দেওয়া। স্কুলজীবনে আমরা সবাই গোপনে এই জিনিসটাই তো চেয়েছি, তা-ই না?

এরপর আছে Extendable Ears। লম্বা মাংসল রঙের একটা তারের মতো জিনিস, দরজার নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিলে ওপাশের সব ফিসফিসানিও স্পষ্ট শোনা যায়। অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্সের বড়রা যখন গ্রিমল্ড প্লেসে গোপন মিটিং করত, হ্যারি, রন, হারমায়োনিরা এই জিনিস দিয়েই আড়ি পাতত। যদিও ওর ক্রুকশ্যাংকস বিড়ালটা একবার একটা কান চিবিয়ে নষ্ট করে দিয়েছিল।

Patented Daydream Charms ছিল আরও অদ্ভুত। ৩০ মিনিটের একটা হাই-কোয়ালিটি ভার্চুয়াল দিবাস্বপ্ন, যা একদম বাস্তবের মতো অনুভব করা যায়, অথচ চোখ খোলা রেখেই। ক্লাসের একঘেয়ে লেকচারের সময় এটি ছিল দারুণ এক আশ্রয়। আবার WonderWitch line-এ ছিল হরেক রকম লাভ পোশন, যেগুলো হগওয়ার্টসের রোমান্টিক মেয়েদের মধ্যে হটকেকের মতো বিক্রি হতো, যদিও হারমায়োনি এর কার্যকারিতা নিয়ে বেশ সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।

আর ছিল U-No-Poo। নামটা একটু খেয়াল করলেই মজাটা বুঝবেন। You-Know-Who, মানে খোদ ভলডেমর্টের নাম নিয়ে বানানো একটা কনস্টিপেশনের জোক। বিজ্ঞাপনে লেখা থাকত, “Why are you worrying about You-Know-Who? You should be worrying about U-No-Poo, the constipation sensation.”

গোটা উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড যখন ভলডেমর্টেরর নাম শুনলেই কেঁপে ওঠে, তখন এই দুই ভাই সেই নাম নিয়েই দোকানের জানালায় বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দিয়েছিল। এই দুষ্টুমির পেছনে আসলে ছিল সাহস।

কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ না।

যুদ্ধ যখন সত্যি সত্যি শুরু হলো, ফ্রেড আর জর্জ-এর সেই হাসির পণ্যগুলোই হয়ে উঠল অস্ত্র। Peruvian Instant Darkness Powder, এক মুঠো ছুড়ে দিলে পুরো এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকার, শত্রু কিছু দেখতে পায় না, আপনি পালাতে পারেন। Decoy Detonators, নজর ঘোরানোর জন্য পারফেক্ট। এমনকি মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিক নিজে তাদের Shield Hats আর Shield Cloaks কিনেছিল, যেগুলো ছোটখাটো curse আটকে দিতে পারত।

চিন্তা করেন ব্যাপারটা। যে জিনিসগুলো বানানো হয়েছিল শুধু মানুষকে হাসানোর জন্য, সেগুলোই একদিন মানুষের জীবন বাঁচাল।

এই দুই ভাইকে আলাদা করা যেত না, এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে সুন্দর দিক। একটা বাক্য একজন শুরু করত, শেষ করত আরেকজন। অথচ ব্যাটল অফ হগওয়ার্টসে সেই দেয়াল ভেঙে পড়ল। ফ্রেড মারা গেল হাসতে হাসতে, ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে।

জর্জ তার নিজের ছেলের নাম রেখেছিল ফ্রেড। ভাইয়ের নামে। ব্যবসাটা সে চালিয়ে গেছে, কিন্তু বলা হয়, দোকানে ঢুকলে তার চোখ মাঝে মাঝে ফাঁকা জানালাটার দিকে চলে যেত। যেন কারও একজন থাকার কথা ছিল, নেই।

মোট কথা, অন্ধকারতম সময়েও কেউ কেউ মানুষকে হাসানোর ব্যবসা করে যায়। ফ্রেড আর জর্জ ছিল ঠিক সেই মানুষ।

JOIN THE CONVERSATION

Comments

0 Comments
User
Your comment will be reviewed before publishing.

No comments yet. Be the first to share your thoughts.

হ্যারি পটার বাংলা, Harry Potter Bangla

প্রয়োজনীয় লিংক
যোগাযোগ

+8801705-067092

Join Us

২০২৬ © হ্যারি পটার বাংলা - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।